
নিজস্ব প্রতিনিধ।
যে বয়সে একটি মেয়ের হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, স্কুলের ব্যাগ আর রঙিন স্বপ্ন—সেই বয়সেই তাকে সহ্য করতে হয়েছে জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন।
ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার এই কিশোরী মাত্র ১১ বছর বয়সে যৌন সহিংসতার শিকার হন। ন্যায়বিচারের আশায় পরিবারের সঙ্গে থানায় মামলা করেছিলেন। কিন্তু বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার আজও অধরা। অপরাধের ক্ষত শুধু তার শরীরেই নয়, গভীরভাবে দাগ কেটেছে তার পুরো জীবনজুড়ে।
আজ সে তিন বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী শিশুর মা। সমাজের অবহেলা, দারিদ্র্য আর অসহায়ত্বের বোঝা একাই বয়ে বেড়াচ্ছেন। সন্তানের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই। অনেক দিনই মা-সন্তানকে না খেয়েই কাটাতে হয়। একটি হুইলচেয়ারের অভাবে ছোট্ট শিশুটি মাটিতেই হামাগুড়ি দিয়ে চলাফেরা করে।
একজন মায়ের সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো নিজের সন্তানের অসহায়ত্ব দেখে কিছুই করতে না পারা। প্রতিদিন সেই অসহায়ত্ব নিয়েই বেঁচে আছেন এই কিশোরী মা। তার একটাই স্বপ্ন—সন্তানের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দেওয়া, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার একটি সুযোগ পাওয়া।
আমাদের সামান্য সহানুভূতি, একটি চাকরির সুযোগ, শিশুটির চিকিৎসা সহায়তা কিংবা একটি হুইলচেয়ার—হয়তো বদলে দিতে পারে দুটি অসহায় জীবনের ভবিষ্যৎ।
আসুন, মানবতার হাত বাড়িয়ে দিই। যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী এই অসহায় মা ও তার শিশুর পাশে দাঁড়াই। একটি ছোট্ট সহযোগিতাও কারও জীবনে নতুন আশার আলো হয়ে উঠতে পারে।
মানুষ মানুষের জন্য—আজ হয়তো আপনার একটি উদ্যোগই ফিরিয়ে দিতে পারে একটি মা ও তার সন্তানের বেঁচে থাকার স্বপ্ন।