
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকা এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারী বর্তমানে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্বজনদের দাবি, চিকিৎসকরা তার গোপনাঙ্গে একাধিক সেলাই দিয়েছেন। হামলায় তার দুটি দাঁত ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছেন।
লোমহর্ষক এ ঘটনাটি ঘটেছে গত ৮ সেপ্টেম্বর দিনগত গভীর রাতে উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের মধ্যপাড়া খানকা মাদ্রাসা এলাকায়।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধ ও মামলা চলমান থাকায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়ির পুরুষ সদস্যরা বাইরে ছিলেন। এ কারণে সন্তানদের নিয়ে তিনি একাই বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে ৩ থেকে ৪ জন ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করে তাকে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ তার। এ সময় সন্তানদেরও এক পাশে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিকদের কাছে ভুক্তভোগী নারী দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি দুজনকে চিনতে পেরেছেন। তারা হলেন—আকবর ও সোহাগ কাজী। তার অভিযোগ, সোহাগ কাজী পাটগাতী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি এবং স্থানীয় সাদেক আলী কাজীর ছেলে। এ ছাড়া আরও দুজন ওই ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে গেলেন নারী
প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে গেলেন নারী
ডাকাতির পর পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে ধর্ষণ করেছিলেন তিনি, অতঃপর...
ডাকাতির পর পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে ধর্ষণ করেছিলেন তিনি, অতঃপর...
ঘটনার একপর্যায়ে প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে বাড়িটিতে ছুটে যান। স্থানীয়দের ভাষ্য, সেখানে তারা ওই নারীকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় অভিযুক্তরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠান।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পর আকবর ও রহিম কাজী নামে দুজনকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় বলে জানান স্থানীয়রা। তবে তাদের স্বীকারোক্তির বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি মো. আইয়েব আলী বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আমরা দুজনকে গ্রেপ্তার করেছি। অন্যদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।