নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি যেন শুধু একটি খবর নয়—এটি এক বাবার শেষ চেষ্টা, এক মায়ের ভেঙে পড়া আর একটি শিশুর নিঃশব্দ বিদায়ের গল্প।
কক্সবাজারের আলোকচিত্রী মোহাম্মদ আলম। সৈকতে ছবি তুলে সংসার চালাতেন। ছোট্ট ৯ মাসের মেয়ে সুরাইয়া হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয় চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে। সন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগাতে নিজের একমাত্র জীবিকা ক্যামেরাটিও বিক্রি করে দেন তিনি। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি।
হাসপাতালের ভেতরে তখন অক্সিজেনের হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা (অক্সিজেন পাইপ) জোগাড়ের জন্য চলছে দৌড়ঝাঁপ। এক কোম্পানি থেকে নিশ্চিতও হয়েছিল জিনিসটি আসছে, আধা ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছাবে। কিন্তু তার আগেই মোবাইল ফোনে আসে সেই ফোনটি—ভেতরে আসতে বলা হয়, কারণ শিশুটি আর নেই।
আইসিইউর দরজার ওপারে স্তব্ধ এক পৃথিবী। ভেতর থেকে নার্সের খবর, বাইরে ভেঙে পড়া বাবা। আরেক পাশে মা চিৎকার করে বলছেন, “আর কিছু লাগবে না… আমার মেয়ে নাই।”
কিছু সময়ের মধ্যেই ছোট্ট সুরাইয়ার নিথর দেহ নিয়ে রওনা দেয় পরিবার—কক্সবাজারের পথে। পথে ছিল শুধু কান্না, আর এক নিঃশব্দ শূন্যতা।
এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের শোক নয়। এটি আমাদের চারপাশের বাস্তবতারও কঠিন প্রতিচ্ছবি—যেখানে শেষ মুহূর্তের চিকিৎসা সহায়তাও কখনো কখনো নাগালের বাইরে চলে যায়।