• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২১ অপরাহ্ন
Headline
ভালুকায়ে অটো রিক্সা ও মোটরসাইকেল সংঘর্ষের নিহত ১। ময়মনসিংহ ছিনতাই এর টাকা ভাগাভাগি করার সময় একজন আটক হয়েছে। অনলাইনে জুয়া খেলার টাকা না পেয়ে সন্তানকে মেরে ফেলছে বাবা। শশুর ধর্ষণ করলো পুত্রবধূকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডাক্তার দম্পতির নির্মম নির্যাতনের শিকার আয়েশা নামের এক কিশোরী। ভালুকা এক সন্ত্রাসী অত্যাচার কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতাই ক্ষুদ্র ও। শ্রীপুরে চলাচলের রাস্তা কেটে ফেলায় চরম উত্তেজনা! কটিয়াদীর মধ্যপাড়া বাজারে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর সন্তান প্রসব রক্ষক যখন ভক্ষক হয়, তখন অসহায় এক নারী কোথায় যাবে? নিজের শ্বশুরের লালসার শিকার হওয়া এক গৃহবধূর লোমহর্ষক বর্ণনা শুনলে আপনার গায়ের পশম দাঁড়িয়ে যাবে।

শশুর ধর্ষণ করলো পুত্রবধূকে।

Reporter Name / ১৭ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

ভুক্তভোগী গৃহবধূ শারমিনের বলেন স্বামী প্রবাসে থাকায় তার ওপর কুনজর পড়েছে নিজ শ্বশুর রুস্তম গাজীর। প্রথমে ইশারা-ইঙ্গিতে বিরক্ত করা, পরে সরাসরি খারাপ প্রস্তাব এভাবেই শুরু হয় হয়রানি। শারমিন সবসময় বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেন। একদিন গভীর রাতে, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে শ্বশুর তার ঘরে ঢুকে পড়েন। সেদিনই জোরপূর্বক তাকে ধ/র্ষ/ণ করেন। ঘটনার সময় তার শাশুড়ি কুষ্টিয়ায় ছিলেন। পরে শাশুড়ি বাড়ি ফিরলে তিনি সব খুলে বলেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার তো দূরের কথা, উল্টো তাকে অবহেলা করা হয়। ঠিকমতো খাবারও দেওয়া হতো না। এভাবে প্রায় ৩ মাস তাকে নি’র্যা’তনের মধ্যে রাখা হয়।

সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে, যখন শারমিন বুঝতে পারেন তিনি অন্তঃসত্ত্বা। শারমিন বলেন তিন মাস পর শ্বশুর তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে গ/র্ভপাত করানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি সন্তান নষ্ট করতে রাজি হননি। এরপর তাকে ভয় ভীতি দেখানো হয় মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। এ সময় শাশুড়িও তাকে চুপ থাকতে চাপ দেন।
ঘটনাটি গোপন রাখতে শারমিনকে নির্দেশ দেওয়া হয়, কেউ জিজ্ঞেস করলে যেন বলেন তার পেটে টিউমার হয়েছে। বাধ্য হয়ে তিনি সবার কাছেই সেই কথাই বলতে থাকেন। এভাবে প্রায় ৮ মাস কেটে যায়।

প্রবাসে থাকা স্বামীকে জানানো হয় শারমিনের পেটে টিউমার হয়েছে এবং অপারেশন করতে হবে। এই কথা বলে তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে তাকে একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আল্ট্রাসনোগ্রামে জানা যায়, তিনি একটি ছেলে সন্তানের মা হতে যাচ্ছেন। রাত ১২টার দিকে সিজারের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। অপারেশনের পর জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখেন, তিনি এক বেডে আর তার নবজাতক অন্য বেডে শুয়ে আছে। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে এরপর। সন্তান জন্মের পরপরই তাকে কিছু না জানিয়ে লিপি নামের এক নারীর মাধ্যমে নবজাতক শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়া হয়। শারমিনের দাবি, তার ননদ কোলে নিয়ে শিশুটিকে নিচে নিয়ে যান, এরপর আর তিনি সন্তানের খোঁজ পাননি। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নেওয়ার সময় তার কাছ থেকে স্বাক্ষর ও ছবি নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে আর চুপ থাকেননি শারমিন। তিনি গলাচিপা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর পুলিশ অভিযুক্ত শ্বশুর রুস্তম গাজীকে আটক করে। এই ঘটনাকে ঘিরে একটি প্রশ্ন থেকেই যায় একজন নারীর জন্য যদি নিজের ঘরই নিরাপদ না হয়, তাহলে সে কোথায় আশ্রয় খুঁজবে? এই ঘটনার বিচার কি শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ হবে, নাকি এটিও হারিয়ে যাবে অসংখ্য ঘটনার ভিড়ে? ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালী গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের আটখালী গ্রামে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category