নিজস্ব প্রতিবেদক।
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার দুই ইউনিয়ন রাওনা দীঘা মানেহলা, মশাখালি বলতে টানপাড়া, মুখী ও বেলাবর সীমানা দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী কইরানের খাল আজ অস্তিত্ব সংকটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে খাল ভরাট করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি ও খাল দখল করে কাঁচা-পাকা বাড়ি, দোকান ঘর, মার্কেট, মৎস্য চাষ, বিভিন্ন জাতের গাছপালা রুপন করা হয়। ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়।
স্থানীয় মুরুব্বিদের ভাষ্যমতে, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে খনন করা এই খাল একসময় এলাকার কৃষি ও নৌ-যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। খাল দিয়ে নৌকা ও ট্রলার চলাচল করত এবং কৃষকেরা ধানসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বর্মী বাজার, বিরোনিয়া বাজার, শিবগঞ্জ ও শান্তিগঞ্জ বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন হাটে নিয়ে যেতেন।
এলাকাবাসীর দাবি, বর্তমানে খালটি দখল ও ভরাটের কারণে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফলে কৃষিকাজে সেচ সংকট দেখা দিয়েছে এবং উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কৃষকদের মতে, খালটি পুনরায় খনন করা হলে এলাকার কৃষি উৎপাদনে ব্যাপক উন্নতি হবে। ধান, পাট, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকেরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, জিয়াউর রহমানের খাল খনন উদ্যোগের স্মৃতি ধরে রাখতে এবং কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পুনরায় খাল খনন কার্যক্রম চালুর পক্ষে মত দিয়েছেন বলে তারা উল্লেখ করেন। তবে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল খাল দখল ও ভরাট করে এসব উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই কইরানের খাল দখলমুক্ত করে পুনরায় খননের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও কৃষকরা।
কৃষকদের ভাষ্য, খালটি পুনরুদ্ধার করা গেলে হাজার হাজার টন ধান ও বিভিন্ন সবজি উৎপাদন সম্ভব হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও দেশের খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।