• মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন
Headline
৫০০ টাকা ভাড়ার জন্য চুল বিক্রি! দুই সন্তান নিয়ে রেললাইনের পাশে অসহায় রেহানা বিয়ে হয়নি, তবুও সন্তানের মা—এক কিশোরীর না বলা কান্নার গল্প গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে মাদকের অভিযোগ, লিখিত অভিযোগ থানায়। জেলা শ্রমিকদল নেতার নামে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন । লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা দেখতে বাধা চোখের সামনেই মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে গেল জীবনের সবটুকু সঞ্চয় আর শেষ অবলম্বন শ্রীপুর উপজেলা শিল্পাঞ্চল শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক বাবার পর এবার দুই অবুঝ এতিম শিশুকেও পুড়িয়ে মারার চেষ্টা! শ্রীপুরের এই নৃশংসতা কি থামবে না? অবিশ্বাস্য এক প্রেম কাহিনী, ধোবাউড়ায় শিশুকে দলবদ্ধ ধ/র্ষ/ণের ও পর হ/ত্যা মামলায় ৩ জনের মৃ/ত্যু/দ/ণ্ড।

বাবার পর এবার দুই অবুঝ এতিম শিশুকেও পুড়িয়ে মারার চেষ্টা! শ্রীপুরের এই নৃশংসতা কি থামবে না?

Reporter Name / ৯৭ Time View
Update : রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬


১০ বছরের ফুটফুটে কন্যাসন্তান আজিদা আর ৮ বছরের অবুঝ ছেলে ইয়াছিন। মা আগেই ছেড়ে চলে গেছেন। দিনমজুর বাবা আজিজুলই ছিলেন তাদের একমাত্র আশ্রয়, বেঁচে থাকার পৃথিবী। কিন্তু গত ১ জুন সেই বাবাকেও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করল এলাকার সন্ত্রাসীরা।
​বাবার মৃত্যুর পর দুই এতিম শিশুর চোখের জল এখনো শুকায়নি। কিন্তু অপরাধীদের নৃশংসতা এখানেই থেমে থাকেনি। এবার সেই বাবার হত্যা মামলা তুলে না নেওয়ায়, এই দুই নিষ্পাপ শিশুকে ঘরে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছে!

​”ওরা আমার ছেলেকে কেড়ে নিয়েছে। এখন আমার দুই এতিম নাতিকেও পুড়িয়ে মারতে চায়! আমরা কোথায় যাব? কার কাছে বিচার চাইব?”
— কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন নিহত আজিজুলের বৃদ্ধা মা কমলা বেগম।

​বৃহস্পতিবার ভোররাতে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের পাইটাল বাড়ি এলাকায় এই কলিজা কাঁপানো ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজিজুল হত্যার পর তাঁর পরিবার মামলা করায় মূল আসামি জামাল উদ্দিনের স্ত্রী মুক্তা বেগম ও তাঁর সহযোগী ফারুক প্রতিনিয়ত মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছিল। এ নিয়ে থানায় একাধিক জিডি করলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।
​বুধবার ওই হত্যা মামলার এক আসামি জামিনে বের হওয়ার পরপরই শুরু হয় নতুন তাণ্ডব। প্রথমে রাতের অন্ধকারে আজিজুলের বৃদ্ধ বাবা হানিফকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এরপর ভোররাতে, যখন দুই অবুঝ শিশু ঘরের ভেতর গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন বাইরে থেকে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়! শিশুদের চিৎকার আর আগুনের লেলিহান শিখা দেখে, দাদি কমলা বেগম তাদের উদ্ধার না করলে, হয়তো আজ দুই এতিমের নিথর কয়লা পাওয়া যেত।

​এই বর্বরোচিত ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) নিহতের মা কমলা বেগম বাদী হয়ে শ্রীপুর মডেল থানায় মুক্তা বেগম ও ফারুকের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
​টাকার গরম আর পেশী শক্তির দাপটে পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। একের পর এক হামলার পরও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এই অসহায় পরিবারটি।

​দুটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলার পরও অপরাধীরা কেন এখনো মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে? প্রশাসন কি পারবে এই এতিম শিশুদের নিরাপত্তা দিতে? আমরা এই নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা