গাজীপুরের কোনাবাড়ীর আমবাগ আতাউর মার্কেট এলাকায়। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সানজিদার ভাড়া বাসার সামনে এক যুবক এসে তাঁর ভাই সাজ্জাদ হোসেনের নাম ধরে ডাকাডাকি করছিলেন। সাজ্জাদ বাসায় না থাকায় তাঁর বোন সানজিদা দরজা খুলে কথা বলেন। তখনই ওই যুবক তাঁর বুকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় বলে পরিবারের অভিযোগ।
সানজিদার চিৎকার শুনে তাঁর ভাবি ছুটে আসেন। পরে আশপাশের মানুষজনও এগিয়ে আসেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পথেই শেষ হয়ে যায় তাঁর জীবন।
সানজিদা বরিশালের শাজাহান হাওলাদারের মেয়ে। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি গাজীপুরে ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। অন্য একটি প্রতিবেদনে তাঁকে ওমানপ্রবাসী জুয়েল রানার স্ত্রী বলা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই, সাজ্জাদকে খুঁজতে এসে কেন তাঁর বোন সানজিদাকে হত্যা করা হলো?
সাজ্জাদের ভাষ্য, তাঁর কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই। তাহলে একজন মানুষকে খুঁজতে এসে তাঁর পরিবারের একজন নিরপরাধ সদস্যকে হত্যার কারণ কী?
পুলিশও এখনো হত্যার কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি। কোনাবাড়ী থানার ওসি মো. ইফতেখার হোসেন জানিয়েছেন, টাকা লেনদেন, প্রেমঘটিত বিষয় কিংবা অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একটি পরিবার এখন শুধু জানতে চায়, ২৩ বছরের সানজিদার অপরাধ কী ছিল?
তিনি শুধু দরজা খুলে বলেছিলেন, “সাজ্জাদ ভাই নেই।”
এই একটি বাক্যের পরই তাঁর জীবন থেমে গেল। এখন তদন্তের মাধ্যমে বের হয়ে আসুক আসল সত্য, আর দ্রুত গ্রেপ্তার হোক এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি।